সূচকে নিম্নমুখিতা

পুঁজিবাজারে লেনদেন কমেছে ২৮ শতাংশ

গত বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরুতেও দেশের পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

গত বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরুতেও দেশের পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গতকালও দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন কমেছে ২৮ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ কমেছে আরো বেশি, ৩৯ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকে সূচকে অস্থিরতা দেখা গেছে। এদিন ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ১৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল সামান্য কমে ১ হাজার ১৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সূচকের পতেন সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, সিঙ্গার বাংলাদেশ ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউইটক্যালসের শেয়ার। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর কমার কারণে ৭ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মন্দা দেখা যাচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ও আর্থিক ফলাফলেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। অনেক কোম্পানিই আগের তুলনায় কম লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তাছাড়া প্রান্তিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও মুনাফা কমেছে। কেউ কেউ লোকসানের মধ্যেও পড়েছে। বিদ্যমান এ চ্যালেঞ্জিং অবস্থা আরো দীর্ঘ হবে বলেই মন হচ্ছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেকেই নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসা মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা কমে গেছে। অনেকেই সঞ্চয় ভেড়ে ফেলছেন। তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ালে পুঁজিবাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গতকাল ডিএসইতে ৩০৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪২৮ কোটি টাকা। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৯৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ২১৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৬৪টির বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়েছে ব্যাংক খাত। ১১ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। বস্ত্র খাত ৯ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে লেনদেন হয়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে চয়টি বাদে বাকি সব খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে পাট খাতে ২ শতাংশ, সেবা ও আবাসন খাতে ১ দশমিক ২ এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ১৮ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৮১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ২৩ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৪৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৮৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯টির, কমেছে ৭৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ৪ কোটি ১১ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

আরও